facebook


ভারতে ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে ৭০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে জেনেরিক ওষুধ

Generic drugs Generic drugs

জেনেরিক ওষুধকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর পরিচিতি বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন মার্কেটিং কৌশল আনতে চলেছে, যাতে এই ওষুধের ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়ে।

নতুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেনেরিক ওষুধকে আলাদা করে চেনানোর জন্য এগুলোর বিশেষ রং (কালার-কোড) নির্ধারণ করা হবে, যাতে এগুলোকে দামি ব্র্যান্ডেড ওষুধ থেকে সহজে আলাদা করা যায়। এর লক্ষ্য হলো, ওষুধ কেনার সময় মানুষ যেন সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—ব্র্যান্ডেড নেবে নাকি জেনেরিক। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, জেনেরিক ওষুধের গায়ে বিশেষ চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হবে।

ভারতে জেনেরিক ওষুধের বিক্রি বাড়াতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই একের পর এক নানা উদ্যোগ নিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিকল্পনা। বহুদিন ধরেই ভারতকে ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়, কারণ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে জেনেরিক ওষুধ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু বিশেষজ্ঞের মত, এই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে—অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারক দেশের প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিয়মকানুন আরও কঠোর হয়েছে।

তার পরও, ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে এখনো জেনেরিক ওষুধই সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। ২০১৭ সালে ফার্মা সেক্টরের মোট আয়ের প্রায় সত্তর শতাংশই এসেছে জেনেরিক ওষুধ থেকে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, দেশের ভেতরেও জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বাড়ানোর একটি বড় প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেনেরিক ওষুধের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্র থেকে একের পর এক প্রস্তাব এসেছে। একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি কোনো জেনেরিক বিকল্প পাওয়া যায়, তাহলে ডাক্তারদের আইনত বাধ্য করা হবে ব্র্যান্ড নামের বদলে ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতে, যাতে রোগী চাইলে কমদামি জেনেরিক ওষুধ নিতে পারে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা, কেমিস্ট এবং ডাক্তারদের মধ্যে বেশ বিতর্ক ও ভিন্নমত দেখা গেছে।

শুধু জেনেরিক ওষুধ সরবরাহের জন্য সরকার পরিচালিত ফার্মেসি খোলাও কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে—সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আয়ুষ্মান ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প কেন্দ্র (PMBJPK)—এই উদ্যোগ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

PMBJK প্রকল্পের আওতায় ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ নামে বিশেষ দোকান খোলা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র জেনেরিক ওষুধ বিক্রি হয়। বর্তমানে সারা দেশে এমন তিন হাজারেরও বেশি দোকান চালু রয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ভারতের জেনেরিক ওষুধ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার এবং জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

জেনেরিক ওষুধকে আরও সহজলভ্য ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে এর মানে এই নয় যে, ভারতের জেনেরিক ওষুধ শিল্প যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে—সেগুলো একেবারে দূর হয়ে যাবে। তবুও এটাও সত্য, অন্তত এই মুহূর্তে ভারতের জেনেরিক ওষুধ শিল্প এমন এক শক্তি, যাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

Recent Blogs


Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.


medicine cart

₹ 0

0

Items added


2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved

Our Payment Partners

card
correct iconAdded!